তোমার আগুন

তোমার দাহ নিয়েছিলাম
তোমার থেকে নিয়ে,
নিজেরই ঘর জ্বালিয়ে দিলাম
কূলে আগুন দিয়ে।

সবাই হাসে মীর বাড়িতে
মেজো মীরের নাতি,
কে জানে কার কুদরতিতে
বাতাসে দেয় বাতি।

হায়রে দ্যাখো কেউ জানে না
ভালোবাসার ভুলে
ঐ বাড়ির ঐ মধ্যভিটেয়
আতশীফুল দোলে।

ঘর পোড়ালাম দোর পোড়ালাম
কূলে দিলাম কালি,
কত ইতর লোক হেসেছে
বাজিয়ে হাততালি।

কোন নগরে ঘর বেঁধেছো
কোন সায়রের পারে?
তোমার আগুন বইতে নারি
শরীরে,সংসারে।।

যাত্রা-ভঙ্গ

যাত্রা-ভঙ্গ

নির্মলেন্দু গুণ

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই৷

Read the rest of this entry »

দুঃখের আরেক নাম

দুঃখের আরেক নাম

হেলাল হাফিজ


আমাকে স্পর্শ করো, নিবিড় স্পর্শ করো নারী।
অলৌকিক কিছু নয়,
নিতান্তই মানবিক যাদুর মালিক তুমি
তোমার স্পর্শেই শুধু আমার উদ্ধার।

আমাকে উদ্ধার করো পাপ থেকে, Read the rest of this entry »

মেয়ে : জীবনানন্দের অগ্রন্থিত কবিতা

কল্পনায় সবসময় চেয়েছি আমার ঘরে ছোট্ট ফুটফুটে একটি মেয়ে থাকবে। আমার মেয়ে। ঘর আলো করে সারাদিন ছুটে বেড়াবে… আধো আধো বোলে মাতিয়ে রাখবে সারা বাড়ি। এ আমার স্বপ্নের মেয়ে। স্বপ্নে থাকে। স্বপ্নের মতই সুন্দর। রেশমী কালো চুল দুলিয়ে, নরম হাতের ছোট্ট আঙ্গুলে আমার আঙ্গুল জড়িয়ে ঘুরে বেড়াবে ঘরময়… আমার সেই মেয়ে।

প্রথম যখন এই কবিতাটি পড়ি তখনো আমার সেই মেয়ে জন্ম নেয়নি। একদিন সন্ধেবেলায় হঠাৎ এই কবিতাটি পড়ে মনটা এত বিষন্ন হয়ে পড়ল… কেন যেনো মনে হল আমার অনেক সুন্দর একটি মেয়ে হবে… আমি অনেক আদরে দেখে রাখব তাকে… অনেক যত্ন নিয়ে ধরে রাখব বুকের ভেতরে…

অনেকদিন পর জীবনানন্দ পড়তে গিয়ে এই কবিতাটিই প্রথম চোখে পড়ল । আপনাদেরও হয়ত ভালো লাগবে। Read the rest of this entry »

তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না

তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না- আবুল হাসান


এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া

তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,

তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো

কালিমা রাখবো না!


এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া

তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন

তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর

পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো Read the rest of this entry »

বাম হাত তোমাকে দিলাম

বাম হাত তোমাকে দিলাম

হেলাল হাফিজ

 

এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।

একটু আদর করে রেখো, চৈত্রে বোশেখে

খরা আর ঝড়ের রাত্রিতে মমতায় সেবা ওশুশ্রূষা দিয়ে

বুকে রেখো, ঢেকে রেখো, দুর্দিনে যত্ন নিও

সুখী হবে তোমার সন্তান।

এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।

ও বড়ো কষ্টের হাত, দেখো দেখো অনাদরে কী রকম

শীর্ণ হয়েছে, ভুল আদরের ক্ষত সারা গায়ে

লেপ্টে রয়েছে, পোড়া কপালের হাত

মাটির মমতা চেয়ে

সম্পদের সুষম বন্টন চেয়ে

মানুষের ত্রাণ চেয়ে জন্মাবধি কপাল পুড়েছে,

ওকে আর আহত করো না, কষ্ট দিও না

ওর সুখে সুখী হবে তোমার সন্তান।

 

কিছুই পারিনি দিতে, এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।

ওটা কিছু নয়

 

ওটা কিছু নয়    

                নির্মলেন্দু গুণ

 

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?

একটু দাঁড়াও আমি তৈরী হয়ে নিই ।

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?

তেমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার । ওটা নয়, ওটা চুল ।

এই হলো আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো,না, না, না,

-ওটা নয়, ওটা কন্ঠনালী, গরলবিশ্বাসী এক শিল্পীর

মাটির ভাস্কর্য, ওটা অগ্নি নয়, অই আমি আমার যৌবন ।

দুপুর – অভিসার


দুপুর-অভিসার
	কাজী নজরুল ইসলাম

যাস কোথা সই একলা ও তুই অলস বৈশাখে?
জল নিতে যে যাবি ওলো কলস কই কাঁখে?

         সাঁঝ ভেবে তুই ভর-দুপুরেই দুকূল নাচায়ে
         পুকুর-পানে ঝুমুর ঝুমুর নুপূর বাজায়ে
                যাসনে একা হাবা ছুঁড়ি,
                অফুট জবা চাঁপা-কুঁড়ি তুই

Read the rest of this entry »

ফেরার সঙ্গী : আল মাহমুদ


ফেরার সঙ্গী
আল মাহমুদ

ঘাটে এসে আর পেলাম না খেয়া নৌকা
দু’জন আমরা ছিলাম ফেরার যাত্রী
আমার দুহাতে নিষিদ্ধ ক’টি গ্রন্থ
সবে তো সন্ধ্যা, মনে হলো কতো রাত্রি
Read the rest of this entry »

সুন্দরের নখ : আল মাহমুদ



হাত ছেড়ে দাও নারী। ছাড়ো,
উষ্ণ করতল জেনো পুরুষের বুকে থেকে যায়।
ত্রেনের হুইসেল পারে মুছে ফেলতে একটা স্টেশন
কিন্তু যা পারে না তার নাম আমরা কবিতায় উচ্চারণ করি না।

« Older entries

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.